বুধবার,১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া যোগ দিবেন ১২ হাজার অতিথি


সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া যোগ দিবেন ১২ হাজার অতিথি


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
২০.১১.২০১৪

পূর্বাশা ডেস্কঃ
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আজ বিকেলে সোনাকুঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তার তরফ থেকেই এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের ও পেশার ১২ হাজার ব্যক্তিকে। এরমধ্যে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে তালিকায় নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম। তাকে ও তার ব্যক্তিগত স্টাফসহ কয়েকজনকে দাওয়াতপত্র সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংশ্লিস্ট বিভাগ থেকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে গুলশানের অফিসে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কাছে। তবে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন কিনা এটা এখনও নিশ্চিত নয়।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনী থেকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বিএনপির তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি করা হয়। কেউ স্বীকার করেননি দাওয়াতপত্র পাওয়ার বিষয়টি। বলার চেষ্টা করেছেন দাওয়াতই দেওয়া হয়নি। তারা অস্বীকার করলেও সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিস্ট বিভাগ থেকে আমন্ত্রণপত্র বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত স্টাফের কাছে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার নিজে পৌঁছে দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সশ্রস্ত্র বাহিনী বিভাগ।

সূত্র জানায়, বিএনপির নেতাদের মধ্যে যারা আগে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন পদে ছিলেন তাদের অনেকেই দাওয়াত পেলেও কয়েকজন দাওয়াত পাননি। দাওয়াত পেয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। আর দাওয়াত না পাওয়ার দিকে রয়েছেন ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ।

এই ব্যাপারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমি অনুষ্ঠানে যোগ দেব। এটা বলতে পারি। বিএনপি চেয়ারপারসন অনুষ্ঠানে যাবেন কিনা এটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি দাওয়াত পেয়েছেন কিনা সেটা আমার জানা নেই। হয়তো পেয়েছেন। তবে যাবেন কিনা এটা আমি জানি না।

এদিকে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ বলেন, আমি, আমরা কোনো দাওয়াত পাইনি। এমনকি আমাদের চেয়ারপারসনকেও দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এই কারণে আমরা যাচ্ছি না। কেন দাওয়াত দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে বলেন, সেটা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে জানতে চান। আমরা জানি না।

এই ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল বলেন, দাওয়াত এসেছে কিনা আমি জানি না। তবে ম্যাডাম যাবেন এমন কোনো আলোচনা শুনিনি। এর আগে ২০১২ সালে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ওই সময়ে তার যথাযথ সম্মান জানানো হয়নি। তাকে গেটে থেকে নিয়ে যাওয়ার মতোও তেমন কেউ ছিলেন না। একজন ক্যাপ্টেন তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এটা তিনি ভালোভাবে নেননি। অন্যদিকে ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার অনুষ্ঠান হলেও বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেননি। যার অনুষ্ঠান, তিনি যদি উপস্থিত হওয়ার পরও দেখা না করেন তাহলে এর চেয়ে আর বড় অপমাণ কি হতে পারে। ওই অপমাণের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই জন্য গত বছর অনুষ্ঠানে যাননি। এবারও যাবেন বলে মনে হচ্ছে না। তবে দাওয়াত এসেছে কিনা তাই বলতে পারবো না। প্রতিবার আমিও কার্ড পাই এবার পাইনি। তিনি বলেন, দাওয়াত আদৌ দেওয়া হয়েছে কিনা এটি আপনারা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে খবর নিন। আমরা কিছু বলতে পারবো না।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে কি হয়নি এই নিয়ে বিএনপির নেতা ও চেয়ারপারসনের প্রেস সচিবের মধ্যেই নানা রকম কথা রয়েছে। তারা জানেনই না যে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে কি হয়নি।

এই ব্যাপারে সঠিক তথ্য জানার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী শিমুল বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় দুই দফায় বলেন, এ নিয়ে এখন কথা বলবো না। পরে বলবো।

তারা কেউ স্বদোত্তর দিতে না পারায় যোগাযোগ করা হয় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে। সেখান থেকে জানানো হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে বিএনপি নেতা ও তার প্রেস সচিব যে কথা বলেছেন তা সঠিক নয়। বিএনপি চেয়ারপারসনকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমাদের অফিসার তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি তা রিসিভ করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন অনুষ্ঠানে আসছেন কিনা এই ব্যাপারে ওই সূত্র জানায়, তিনি আসবেন কি আসবেন না এটা কিছুই জানাননি। তবে আমরা তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি, আশা করছি তিনি আসবেন। একজন কর্মকর্তা বলেন, তাকে আমন্ত্রণ না জানানোর মতো কোনো কারণ নেই।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বিরোধীদলীর নেতা রওশন এরশাদ যোগ দিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে সূত্র জানায়, তাদেরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে তারা আসবেন।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে অনেক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে এবার আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এর কারণ জানতে চাইলে সূত্র জানায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো তালিকা করা হয় না। বিএনপির কোনো নেতা বাদ পরলে তিনি বিএনপি দলীয় এই কারণে বাদ পরেছেন বিষয়টি এমন নয়।

এদিকে ওয়ান ইলেভেনের নায়কদের ৪ জনই এতোদিন বিদেশে ছিলেন। এখন একজন দেশে রয়েছেন। এদের একজন এতোদিন সরকারের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরেন ৫ মে। ওয়ান ইলেভেনের নায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কিনা এই ব্যাপারে জানতে চাইলে সূত্র জানায়, অনেকের নামই বাদ পড়েছে। সবাইকে দাওয়াত করা সম্ভব হয়নি। তিনি ওয়ান ইলেভেনের নায়ক সেই হিসাবে আমরা বিবেচনা করি না। আমরা যত জনকে দাওয়াত করা প্রয়োজন ততোজনকে দাওয়াত করেছি। কেউ কেউ হয়তো বা বাদ পরে থাকতে পারেন।

আমন্ত্রিত অতিথিদের কি দিয়ে আপ্যায়ন করা হতে পারে জানতে চাইলে সূত্র জানায়, সমুচা, কেক, মিষ্টি ও চা-কফিতো থাকছে। সেই সঙ্গে আরো কিছু আইটেম থাকবে। বিকেলের অনুষ্ঠান বলে বিকালের নাস্তারই আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠানে যাবেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতাও করতে পারেন। সেখানে বিকেলের নাস্তার পর্ব শেষ করে ফিরে যাবেন।khaleda-2



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি