বৃহস্পতিবার,১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


লাশ ও মাছ সংরক্ষণের বরফ দিয়ে তৈরি হচ্ছে শরবত-কোল্ড ড্রিংকস


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১০.০২.২০১৬

5337d102dffab-15-400x250
ডেস্ক রিপোর্টঃ

ঢাকার নিউ মার্কেটে ভ্যানে করে আনা লাশ ও মাছ সংরক্ষণের বরফ যাবে ফাস্ট ফুডের দোকানে। স্বাভাবিক ভাবেই সন্দেহ হলো মাছ ও লাশ সংরক্ষনের বরফ ফাস্ট ফুডের দোকানে কেন? দোকানির কাছে প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে সটকে পড়েন তিনি। নিজেকে আড়াল করে মার্কেটের অন্য পাশে গিয়ে পাওয়া গেলো শিশু বিক্রেতাকে। ধরা পড়ে অকপটেই স্বীকার করে নিলো কোন কোন ফাস্টফুডের দোকানে যায় এসব খাবার অযোগ্য বরফ। মিড বস, ইউসূফ ফাস্টফুড, প্যারিস, রাইস ম্যান, শরমিলি, চিকেন ভিলেজ, ফ্যামিলি ও ফুডপ্লাস এর মতো বিভিন্ন ফাস্ট ফুডের দোকানে। সত্যতা যাচাই করতে গেলে বরাবরের মতো অস্বিকার করলেন দোকানি।

খুঁজতে খুঁজতে নিউ মার্কেটের বনলতা এলাকায় পাওয়া গেলো বরফের কারখানাটি। কোনরকম পরিশোধন ছাড়াই ওয়াসার পানিতে তৈরি করা হচ্ছে বরফ। এই বরফ মাছ ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহার হওয়ার কথা, অথচ মানুষের আকৃতিতে থাকা কিছু জীব এই বরফই লোকজনকে অন্ধকারে খাইয়ে দিচ্ছে ।

বনলতার মতো মোহাম্মদপুর সোয়ায়িঘাট, যাত্রাবাড়িতেও মাছের আড়তকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বরফ কারখানা। এসব কারখানা থেকেও খাবার অযোগ্য বরফ চলে যাচ্ছে ফাস্ট ফুডের দোকানে। তৈরি হচ্ছে লাচ্ছি ও শরবতের মতো নানা খাবার ।

এর কারিগরদেরও এই বিষয়ে নেই কোন প্রশিক্ষণ। তাই যে যার মতো করে নেমেছে বরফ তৈরি করতে। দেখারও কেউ নেই । এ নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই প্রশাসনের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিকে সরাসরি বরফ করা হলে এর মধ্যে থাকা জীবাণু বরফে থেকে যায়। আর এই বরফে থাকা জীবাণু খাদ্যের মাধ্যমে ক্ষতি করে মানবদেহের।

এ বিষয়ে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইন্সটিউট এর পরিচালক অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেন, এর ক্ষতিকর নানা দিকের কথা। পানিবাহিত যতো ধরণের জীবাণু আছে এবং পানির মধ্যে যতো রকমের ক্ষতিকর জিনিস আছে সেগুলো মানুষের শরীরে বাসা বাধঁবে। খাবারের জন্য বরফ তৈরি করতে হলে বিশুদ্ধ পানি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ:ইফতিখার জানান, পানিটা নিরাপদ খাদ্য আইনে, খাদ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে । কাজেই এই বরফকল গুলোকেও পর্যবেক্ষণ বা নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

রাজধানীতে ফাস্টফুডের নামে বিক্রেতারা ক্রেতাদের মুখে কি খাবার তুলে দিচ্ছে তা তারা নিজেরাও জানেনা। জানেনা কোন খাবার কতোক্ষণ সংরক্ষণ করতে হবে। বা কতোক্ষণ পর পর খাবার গরম না করলে সে খাবার থেকে বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে। নেই কোনো প্রশিক্ষণ । তারপরও শুধুমাত্র টাকা কামানোর নেশায় মানুষকে ঠকিয়ে যাচ্ছেন তারা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি