সোমবার,১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » বাংলাদেশ-ব্রিটেন রুটে কার্গো বিমান বন্ধে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা


বাংলাদেশ-ব্রিটেন রুটে কার্গো বিমান বন্ধে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১১.০৩.২০১৬

Biman

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশ এবং ব্রিটেনের মধ্যে কার্গোবাহী সরাসরি বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর বাংলাদেশ সরকার এ সিদ্ধান্তকে অনাকাক্সিক্ষত বলেছে। বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিকমানের নিরাপত্তা নেই বলে উল্লেখ করে ব্রিটিশ সরকার বুধবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ৩১ মার্চের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নতি না হলে যাত্রীবাহী সরাসরি ফ্লাইটও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটেন। কার্গোবাহী বিমানচলাচল নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন এতে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঢাকা থেকে কার্গো ফ্লাইট নিষিদ্ধের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধের ব্যাপারেও যে ইঙ্গিত দিয়েছে সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিমান মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় বৈঠক ছিল চোখে পড়ার মত। বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ঢাকায় হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরী বৈঠক করেছেন।

বৈঠকের পর মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নিরাপত্তা ঘাটতি দূর করতে গত চার মাস ধরে ব্রিটেনের সহায়তায় বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক করার জন্য এবং উন্নত স্ক্যানার মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্র সংগ্রহের জন্য একটি টিম কাজ করছে এজন্য সরকার ৯০ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ করেছে। কিন্তু এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের কার্গো ফ্লাইট নিষিদ্ধ করার মত পদক্ষেপ বাংলাদেশ আশা করেনি।

বেসামরিক বিমান পরিহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন  বলেন, স্ক্যানিং মেশিনের কিছু ত্রুটি থাকার কারণে ব্রিটেন কার্গোবিমান পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এধরনের পদক্ষেপ আমি আশা করিনি। গত পরশু ব্রিটিশ কাস্টমসসে ফোন করে বলা হয়েছিল যখন আমরা এই ব্যাপারটিকে একটি উন্নত পর্যায় নিয়ে গেলাম তখনই আপনারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ঘাটতির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। দুই দেশের সম্মতি পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উন্নত করার কাজ শুরুর জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্রিটেন সময়সীমা দিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ব্রিটেনের পক্ষ থেকে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

রাশেদ খান মেনন আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠির জবাব দিবেন এছাড়াও এ ব্যাপারে ব্রিটেনের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরো বাড়ানো হচ্ছে।

পর্যটন মন্ত্রী বলেন, আমরা ব্রিটিশ হাইকমিশন ও লন্ডনে যোগাযোগ রাখব। ৩১ মার্চের মধ্যে তারা আমাদের যে কর্মপরিকল্পনার কথা বলেছে সে বিষয়টিও তুলে ধরা হবে এবং আমরা সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা নেব। আমি আশা করছি এর মধ্যেই যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে সেটি শেষ হয়ে যাবে। আমরা ইতোমধ্যে অনেক কাজ করে ফেলেছি এবং যে কাজগুলো বাকি আছে সেগুলো ব্রিটেনের সাথে মিলে করার প্রস্তাব দিয়েছি।

এদিকে ব্রিটেন ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইন নিষিদ্ধ করার পর বাংলাদেশের তৈরি পোষাক শিল্পের মালিক সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন পুরো রপ্তানিই হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, পোষাক শিল্প থেকে শুরু করে যে পণ্যগুলো রপ্তানি হয় সবকিছুই হুমকির মুখে পড়বে। গত বছরের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত বছর আমরা যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি করেছি ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উপরে। কিন্তু এ বছর আমরা টার্গেট করেছি রপ্তানি হবে সাড়ে ৩ বিলিয়নের উপরে। কিন্তু সেই রকম একটি বাজার থেকে যদি এরকম একটি নিষেধাজ্ঞা আছে সেটি আমাদের জন্য অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যুক্তরাজ্যকে সব দেশগুলো মিলে দায়িত্ব দিয়েছিল বাংলাদেশের বিমানবন্দরে নিরাপত্তার কি অবস্থা সেটি জানার জন্য। যুক্তরাজ্যই যখন আমাদের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেখান অন্যান্য দেশগুলো এ বিষয়টি অনুসরণ করলে আমরা সত্যিই একটি মারাত্মক হমুকির সম্মুখীন হব। কারণ আমাদের সমস্ত রপ্তানির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কার্গো বিমানেই হয়।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাতে কাজ হয় সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা সরকার করছে তার অংশ হিসেবে বিমানমন্ত্রী এবং বিমানমন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখন বিমানবন্দরেই অফিস করবেন।

বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ব্রিটেন অনেক দিন থেকেই তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এত দিনে কেন ব্রিটেনকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট করতে পারল না বাংলাদেশ এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে বিমান চলাচলের সাবেক চেয়ারম্যান (অব.) এয়ার কমোডর ইকবাল হোসেন বলেন, কার্গো বিমান স্ক্যানিং করার জন্য বাংলাদেশে যে সুবিধা আছে সেটি ব্রিটেনের কাছে সন্তুষ্ট নয়। আর এর প্রধান কারণ হলো কিছুদিন আগে রাশিয়ার একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে তদন্ত করে দেখা গেছে এর ভেতরে কিছু বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল। তিনি বলেন, কর্গোবিমান স্ক্যানিং করার জন্য আমাদের যে যন্ত্রগুলো আছে সেগুলো আধুনিক না সেজন্য ব্রিটেন এ বিষয়টির উপরে সন্তুষ্ট নয়।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে বিমারনবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য। কারণ একটি বেসরকারি কোম্পানি ইচ্ছা করলেই যখন যা প্রয়োজন সেটি ক্রয় করতে পারে, কিন্তু সরকার তা পারে না। তাকে কিছু নিয়ম নীতি মানতে হয় এবং ব্রিটেন কার্গোবিমান পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় এর প্রভাব আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যে মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলবে। তবে ব্রিটেনের মতো অন্য দেশ এটি অনুসরণ করবে সেটি আমি মনে করি না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে কার্গো বিমানে করে প্রতিদিন সাতশ থেকে সাড়ে আটশ টন পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। তার মধ্যে অর্ধেকই যায় ব্রিটেনে। বাকিগুলো অন্য দেশে যায়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি