শনিবার,২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


গণ-আদালতে ওদের বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১১.০১.২০১৭

142301pm-111

পূর্বাশা ডেস্ক:

আন্দোলনের নামে মানুষ খুন, অগ্নিসংযোগ এবং তাণ্ডব চালানোর অপরাধে বিএনপি ও তাদের দোসরদের একদিন গণ-আদালতে বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘যারা মানুষ হত্যা করে, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, তাদের মুখে গণতন্ত্র সুরক্ষার কথা মানায় না।

তারা জঙ্গি, তারা সন্ত্রাসী। বাংলার মানুষ তাদের বিচার করবে। ’

শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এর আয়োজন করা হয়। ১৯৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসে দেশের হাল ধরেন জাতির জনক।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব—এই একটি অঙ্গীকারই আজকের দিনে জাতির পিতার কাছে। ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে তিনি এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমরা দেশকে সেইভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব। ’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে খেয়ে খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন। মামলায় আদালতে নিয়মিত হাজিরা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁর কাছ থেকে আমাদের রাজনীতি শিখতে হবে বা গণতন্ত্র শিখতে হবে এটা দেশের মানুষ কোনো দিন মেনে নেবে না। ’

২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচন ঠেকানোর নামে আন্দোলনে নেমে মানুষ হত্যা শুরু করলেন ২০১৩-তে। ২০১৪-তে আবার আন্দোলনের নামে ৫৮২টি স্কুল পোড়ালেন, প্রিসাইডিং অফিসারদের হত্যা করলেন। এসব হত্যাযজ্ঞ চালিয়েও নির্বাচন ঠেকাতে পারলেন না। ২০১৫ সালে আবার বাসা থেকে অফিসে এসে আন্দোলনের নামে তাণ্ডব শুরু করলেন খালেদা জিয়া। সরকার উত্খাতের নামে ২৩১ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়। ২৯টি রেলগাড়ি ও ৯টি লঞ্চে আগুন, ২৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে হত্যা, শত শত কোরআন শরিফ পোড়ানো হয় বায়তুল মোকাররমের সামনে। ’

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদের, সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না। এ জন্য আমি সকলের কাছে আহ্বান জানাই—সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। কেউ যেন এ পথে না আসে সে জন্য সবাইকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। সব ধর্মের মানুষ এই দেশে তার নিজ নিজ ধর্ম শান্তিতে পালন করবে। ’

বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলের চিত্র তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ভূতের পা নাকি পিছন দিক থেকে টানে। ওরাও ভূত হয়ে গিয়েছিল কি না জানি না! আর পিছিয়ে দেবেই না কেন? বিএনপির দোসর জামায়াত। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যাদের ফাঁসি হয়েছে তারাই ছিল খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়। ’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সন্ত্রাস-দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাই সৃষ্টি আর অস্ত্র পাচার ছাড়া কিছুই করতে পারেনি। আর উন্নয়ন করবে কিভাবে, যদি লুটপাট করে। আমরা দিয়েছি বিদ্যুৎ আর তারা দিয়েছে বিদ্যুতের খাম্বা। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ঘাটতির দেশ আজ খাদ্যে উদ্বৃত্ত। বিদ্যুতের উত্পাদন ১৫ হাজার ১৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীত করতে পেরেছি। আমরা সন্ত্রাস দমন করেছি আর তারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। এ বছরও ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি আমরা ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিনা মূল্যে তুলে দিয়েছি। ’

বঙ্গবন্ধুর সময়কার স্মৃতিচারণা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আর ২৫-৩০ বছর বেঁচে থাকলে আরো আগেই এ দেশ উন্নত-সমৃদ্ধ হয়ে উঠত। কিন্তু তা করতে দেওয়া হয়নি। ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। ’

বক্তব্যের শুরুতেই সবাইকে ঐতিহাসিক দিবসের শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। জনসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি