সোমবার,১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » পাকিস্তান থেকে নকল দলিল বানিয়ে এনেছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ : শাওন


পাকিস্তান থেকে নকল দলিল বানিয়ে এনেছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ : শাওন


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
০৯.০৬.২০১৭

পূর্বাশা ডেস্ক:

শহীদ আলতাফ মাহমুদ পরিবারকে অবৈধ বসবাসকারী প্রমাণের জন্য পাকিস্তান থেকে বাড়ির নকল দলিল বানিয়ে এনেছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নেতৃত্বাধীন উচ্ছেদকারীরা।

শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ শুক্রবার সকালে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এমন তথ্য উপস্থাপন করেছেন।

তিনি লিখেছেন, সাত্তার রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যেসব উচ্ছেদ কার্যক্রম করা হয়, তার মূল রূপকার ছিল সেই সময়েও মন্ত্রী হওয়া মওদুদ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও এই কাজে সাহায্য করেছিল মওদুদকে। এমনকি পাকিস্তান থেকে বাড়ির নকল দলিল বানিয়ে এনেছিল ওরা, আমরা অবৈধ বসবাসকারী তা প্রমাণ করবার জন্য।

তিনি আরও লিখেন, এই নিয়ে যাদের মনে সংশয় কাজ করছে আমার কথায়, দয়া করে তারা সেই এক মাসের উচ্ছেদ তা-ব নিয়ে খোঁজ করে দেখবেন। খোঁজ নিয়ে দেখবেন, শুধু শহীদ আলতাফ মাহমুদের পরিবারই নয়, মুক্তিযুদ্ধের আরো কত শহীদ পরিবারকে তখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। একজন শহীদ কন্যা কোন কথা বললেই তা বিশ্বাস করবার দরকার নেই আপনাদের।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ উচ্ছেদ হওয়া বাড়ির সামনে মালামালসহ দাঁড়িয়ে আছেন- এমন ছবি যুক্ত করে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে শহীদ আলতাফ মাহমুদ কন্যা স্মৃতিচারণ করে লিখেছিলেন, অনেক শরীর খারাপেও এই ছবিটা আমাকে সকাল সকাল সোজা করে দাঁড়িয়ে দিলো। দেশ স্বাধীন হবার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শহীদ পরিবারদের বেশ কিছু বাড়ি নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে উপহার দিয়েছিলেন। তার মধ্যে আমাদের বাড়িটি ছিল ১ নং মালিবাগ।

‘‘৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একদিনের নোটিশে সে বাড়ি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়। একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে স্যুটকেসের ওপর মা বসিয়ে রেখেছিলেন আমায়। বসে বসে পুলিশের তা-ব দেখেছিলাম সেদিন। দোতলা থেকে বাবার ব্যাগ ফেলছিল ওরা। এলপি রেকর্ডগুলা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলছিল বারান্দা থেকে। নিচের তলার সংগীত স্কুলের হারমোনিয়াম-তবলা-তানপুরা উঠোনের এখান ওখানে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছিল ওরা। আমি জানতাম না রাতে কোথায় থাকব সেদিন।

শহীদ কন্যা লিখেছেন, সেই উচ্ছেদ প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা মউদুদকে স্যুট পরে মাধবীলতা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তার উচ্ছেদ হওয়া বাসার সামনে বলতে শুনলাম যে, তিনি ফুটপাতে থাকবেন। হা হা হা মউদুদ সাহেব ‘৮২ সালের উচ্ছেদ ভুলি নাই। ভুলব না। ইটটি মারিলে পাটকেলটি খাইতে হয়। ওহ্, আরেকটা কথা, সেদিন আমরা যদিও জানতাম না কোথায় থাকব, তারপরও ফুটপাতে থাকবার কথা ভাবিনি। প্রতিবেশীর খালি বাসাটা তাৎক্ষণিক ভাড়া নিয়ে নিয়েছিলাম আমরা। আমি একশো বছর বাঁচব। হিসাব নিয়ে তারপর যাব।

পূর্বাশানিউজ/০৯-জুন,২০১৭/ফারজানা



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি