রবিবার,৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


ওষুধের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
০৯.০৩.২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট :

সারা দেশে ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। ওষুধের প্যাকেটে খুচরা মূল্য উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই দামে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে না। অবাক হওয়ার মতো ঘটনা, ১২ টাকার ওষুধ ৮শ’ এবং ৬০ টাকার ওষুধ ১৯শ’ টাকায় বিক্রি হতেও দেখা গেছে।

সারা দেশে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ খুচরা ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দামে ওষুধ বিক্রি করছেন এবং তাদের এ কাজে সহায়তা করছেন ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

এ তো গেল ওষুধের প্যাকেটে উল্লেখ থাকা মূল্যের অতিরিক্ত দাম আদায় করা। ওদিকে দফায় দফায় বাড়তে বাড়তে ওষুধের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওষুধ কোনো বিলাসী ভোগ্যপণ্য নয়। এর ওপর মানুষের জীবন-মরণ নির্ভর করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার স্বার্থ রক্ষা করা তাই অনেক বেশি জরুরি। ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কোম্পানিগুলোর উচ্চাভিলাষী বিপণন নীতি ও অধিক মুনাফা করার প্রবণতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোম্পানিগুলো মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের মাধ্যমে চিকিৎসকদের পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে, ওষুধের দাম বাড়িয়ে জনগণের কাছে সেই টাকার সমন্বয় করে থাকে। অর্থাৎ ওষুধ কোম্পানিগুলোর অতি মুনাফা প্রবণতার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এটি অনৈতিক। সরকারকে অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

উদ্বেগের বিষয়, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে দেশে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ১৯৯৪ সালের এক সরকারি আদেশ অনুযায়ী মাত্র ১১৭টি ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার। কার্যত প্রায় গোটা ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ওষুধ শিল্প মালিক সমিতি। তারা কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে দিচ্ছে ওষুধের দাম। দুর্ভাগ্যজনক যে, এ পরিস্থিতি রোধে নেয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ।

আমরা বলব, এ ব্যাপারে সরকারের নির্বিকার থাকার সুযোগ নেই। ওষুধের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপায়ান্তর না দেখে অনেকে ঝুঁকছে ঝাড়ফুঁক আর টোটকা চিকিৎসার দিকে। এতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। চিকিৎসা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। সরকারের দায়িত্ব জনগণের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা নিরসনে উদ্যোগী হওয়া। এ জন্য প্রয়োজনে যদি কঠোর পদক্ষেপও নিতে হয়, সে ক্ষেত্রে দ্বিধা করলে চলবে না।

দেশে ওষুধ শিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। চাহিদার সিংহভাগ মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে দেশে উৎপাদিত ওষুধ। এ খাতের প্রসার ঘটলে সার্বিকভাবে লাভবান হবে দেশের অর্থনীতি। সে জন্য ওষুধ শিল্পের বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে- এটাই আমরা চাই। তবে ওষুধের মান ও অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা রেখেই যা কিছু করার তা করতে হবে। এ লক্ষ্যে ওষুধের বাজার নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি