মঙ্গলবার,২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


আমের নাম ময়না, ওজন ৩ কেজি


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১৭.০৬.২০১৯


ডেস্ক রিপোর্ট :

খামারবাড়িতে জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে মৌসুমি ফলের সঙ্গে সেলফি তুলছেন দর্শকেরা।খামারবাড়িতে জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে মৌসুমি ফলের সঙ্গে সেলফি তুলছেন দর্শকেরা।ফলের নাম ‘ময়না’। রং সবুজ। ছোট, গোলাকৃতির দেশি ফল, স্বাদ মিষ্টি। বাংলাদেশ থেকে এটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ফলটি চাষে আবার উদ্বুদ্ধ হয়েছেন কৃষকেরা। ফার্মগেটের খামারবাড়িতে জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে এই ময়না।

শুধু ময়নাই নয়, বিলুপ্তপ্রায় বাউফল, খুদে জাম, টিপা ফল, সফেদা, ডেউয়া, দেশি গাব, বনকাঁঠালসহ নানা ধরনের দেশি ফলের দেখা মিলল প্রদর্শনীতে। পরিকল্পিত চাষাবাদে এসব ফল আবার পাওয়া যাচ্ছে দেশের গ্রামগঞ্জ ও শহরের বাজারে। রাজধানীতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এমন সব বিলুপ্তপ্রায় ফল ও নানা জাতের ফল নিয়ে জাতীয় ফল প্রদর্শনী শুরু হয়েছে গতকাল রোববার থেকে।

সকালে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক প্রদর্শনী ও জাতীয় ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষের উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনী চলবে ১৮ জুন পর্যন্ত, তবে ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রদর্শনীতে ৭৫ জাতের আম নিয়ে এসেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এসব আমের মধ্যে বৃন্দাবনী, সুবর্ণরেখা, গৌরমতী, সূর্যপুরী, কলা আম, বালিশ আম, ব্রুনাই কিং, বারি আম, কাটিমন, আশ্বিনা উল্লেখযোগ্য। প্রদর্শিত বারি আম-১১, কাটিমন ও ব্রুনাই কিং দর্শনার্থীদের বিশেষ দৃষ্টি কেড়েছে। দিনাজপুর থেকে আসা আমচাষি বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘কাটিমন, বারি আম-১১ ও ব্রনাই কিং আমার নজর কেড়েছে। কাটিমন ও বারি আম-১১ বারো মাস ফল দেয়। আর ব্রুনাই কিং জাতের একটি আমের ওজন হয় ৩ থেকে ৫ কেজি। এখানে ৩ কেজি ওজনের আমও আছে। বাণিজ্যিকভাবে এই তিন প্রজাতির আম চাষ করব বলে ঠিক করেছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একসময় দেশে আমের মৌসুম মে মাসে শুরু হয়ে শেষ হতো জুনে। কিন্তু এখন দেশে নতুন জাতের আম চাষ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে আমের মৌসুমের মেয়াদও বাড়ছে। আমের মৌসুম এখন মে থেকে শুরু হয়ে শেষ হচ্ছে সেপ্টেম্বরে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৮৪টি স্টল রয়েছে প্রদর্শনীতে। প্রথম দিনেই এসব স্টলে দর্শনার্থীদের বেশ ভিড় দেখা গেছে। ধানমন্ডি থেকে প্রদর্শনীতে আসা সুরমা রহমান দুই সন্তান রুপাই ও সনকাকে নিয়ে স্টলে স্টলে ঘুরছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে গ্রামে, দেশি ফল কমবেশি চিনি।

ওরা তো শহরে মানুষ। আম, কাঁঠাল, আনারসের বাইরে দেশি ফল চেনে না বললেই চলে। এসেছি মূলত দেশি ফলের সঙ্গে ওদের পরিচয় করিয়ে দিতে।’ প্রদর্শনীতে দেশি ফলের বাইরে ড্রাগন, রাম্বুটান, স্ট্রবেরি, মাল্টা, লংগান, অ্যাভোকাডো, মিষ্টি তেঁতুলসহ দেশে চাষ হওয়া বিভিন্ন জাতের বিদেশি ফলও রয়েছে।

বিদেশি ফল চাষ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে সাধারণত দেশি ফল বেশি পাওয়া যায়। এ দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খায়, এমন বিদেশি ফল চাষে আমরা গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি। সফলতাও পাওয়া যাচ্ছে। দেশে বিদেশি ফলের চাষ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি