সোমবার,৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে মৃত ঘোষণাকারী বুয়েট চিকিৎসকের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল


বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে মৃত ঘোষণাকারী বুয়েট চিকিৎসকের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১১.১০.২০২০

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে মৃত ঘোষণাকারী বুয়েট চিকিৎসক ডা. মো. মাসুক এলাহীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ রোববার ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করেন।

প্রথমে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি প্রদান করেন ডা. মো. মাসুক এলাহী। এরপর আইনজীবীরা তাকে জেরা শুরু করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেরা চলমান রয়েছে।

জবানবন্দিতে ডা. মো. মাসুক এলাহী বলেন, ‘২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভোর ৮টা থেকে ৭ অক্টোবর ভোর ৮টা পর্যন্ত বুয়েট মেডিকেল সেন্টারের ইমারজেন্সিতে কর্মরত ছিলাম। ৭ অক্টোবর রাত ২টা ৪৭ মিনিটে আমার কাছে একজন ছাত্র পরিচয়ে ফোন করে বলে যে, একজন ছাত্র অসুস্থ, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, দ্রুত শেরেবাংলা হলে আসতে। আমি অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার কালামকে সঙ্গে নিয়ে ফোনের ১০ মিনিটের মধ্যে ওই হলের সামনে যাই। সেখানে যাওয়ার পর ১০/১৫ জন ছাত্র অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে ধরে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্ট্রেজার আনতে বলে। আমি বলি আগে রোগী দেখি, এরপর প্রয়োজন হলে যা করণীয় করব।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা আমাকে উত্তর ব্লকের সিঁড়ির নিকট নিয়ে যায়। একতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়িতে ট্রাউজার ও ফুলহাতা শার্ট পরিধানরত তোষকের উপর শোয়ানো অবস্থায় ছাত্র আবরারকে দেখতে পাই। তোষক ও ট্রাউজার প্রসাবে ভেজা ছিল। আমি পরীক্ষা থেকে তাকে মৃত ঘোষণা করি। এর মধ্যে আমার পাশে দাঁড়ানো ১০/১৫ জন ছাত্ররা দ্রুত চলে যায়। কিছুক্ষণ পর একজন ছাত্র আসে। সে নিজের নাম রাসেল ও বুয়েট শাখার ছাত্রলীগের সেক্রেটারী পরিচয় দেয়। সে বলে আবরার মারা যায়নি। সে ঘুমাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেও আমরা তার (আবরার) সঙ্গে কথা বলেছি। বলে, আপিন ওকে বুয়েট মেডিকেলে বা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। আমি বলি নিয়ে লাভ নেই, সে মারা গেছে।’

‘এরপর আমি বুয়েটের প্রভোস্ট ড. জাফর ইকবাল স্যারকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানাই। তিনিসহ ডিএসডব্লিউ স্যার ও সহকারী প্রভোস্ট স্যার আসেন। এরপর বুয়েটের সিকিউরিটি অফিসার আজাদ এসে পুলিশকে ফোন দিলে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ এসে সুরতাল রিপোর্ট তৈরি করে আমার স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তী সময়ে বুয়েটের যে অ্যাম্বুলেন্স ও ও স্ট্রেচারে আবরারের লাশ ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয় সেই অ্যাস্বুলেন্স ও স্ট্রেচার পুলিশ জব্দ করে। সেই জব্দ তালিকায় আমি স্বাক্ষর করি’, বলেন এই সাক্ষী।

মামলার রাষ্ট্র ও বুয়েট কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রসিকিউটর এহসানুল হক সমাজী ও রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মো. আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া সাক্ষ্য গ্রহণে ট্রাইব্যুনালকে সহায়তা করেন।

মামলায় ২২ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। যাদের সাক্ষ্য গ্রহণকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। অপর তিনজন আসামি পলাতক আছেন। এর আগে মামলাটিতে নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্ল্যাহসহ চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তিনি থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলার ১০১১ নম্বর কক্ষে। গত বছর ৬ অক্টোবর একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। রাত ৩টার দিকে হল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকেণ্ডের পর তার বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে ওই বছর ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর ওই বছর ১৩ নভেম্বর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি