মঙ্গলবার,২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » ফিরে দেখা ১৬ মার্চ, ১৯৭১: মুজিব-ইয়াহিয়ার রুদ্ধদ্বার বৈঠক


ফিরে দেখা ১৬ মার্চ, ১৯৭১: মুজিব-ইয়াহিয়ার রুদ্ধদ্বার বৈঠক


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১৬.০৩.২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট:

শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। আড়াই ঘন্টা ধরে তাদের আলোচনা চলে। আলোচনা শেষে বাইরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ মুজিব বলেন, ‘তারা দেশের রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা কেবল শুরু করেছেন। আলোচনা চলতে থাকবে। কারণ সমস্য যা দু’তিন মিনিটে তার সমাধান সম্ভব নয়।

১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ। অসহযোগ আন্দোলনের নবম দিনে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু একটি সাদা গাড়িতে চড়ে বৈঠকে যান। গাড়ির সামনে ছিল একটি কালো পতাকা। গাড়ির উইন্ডো শিল্ডে বাংলাদেশের মানচিত্র ও একটি পতাকার প্রতিকৃতি লাগানো ছিল। প্রেসিডেন্ট ভবনের উদ্দেশে বের হওয়ার পূর্বে তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন। এর আগের দিন ইয়াহিয়া বাংলাদেশে আসেন ঠিকই কিন্তু বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাত করেননি।

বিদেশি গণমাধ্যম সরব

১৬ মার্চ নিউজউইকে পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণাই করলেন। জনৈক এক পাশ্চাত্য কূটনীতিবিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদক লোরেন জেনকিনসে লিখেন, ‘পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইবে ইহা কোনও প্রশ্ন নয় বরং পরিস্থিতি হঠাৎ এতদূর গড়াইয়াছে যে, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল কী পরবর্তী সপ্তাহে কিংবা আগামী মাসে অথবা দুই বৎসর পর বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িবে ইহাই প্রশ্ন।’

আন্দোলন ঢাকার বাইরে

জামালপুরে হাজার হাজার লোকের লাঠি ও নানান দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল হয়। সংবাদ পত্রিকার খবরে বলা হয়, ঘটনাবহুল মার্চের ১৬ তারিখ, ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত তার ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে সমস্ত বিদেশি বিমানের পূর্ব পাকিস্তানে যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিমানেযোগে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য পরিবহন বন্ধ করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বুদ্ধিজীবীদের সভায় আবুল ফজল, সৈয়দ আলী আহসান, ড. আনিসুজ্জামান প্রমুখ অসহযোগ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

বসে নেই পাক হানাদাররাও। সাতক্ষীরায় মিছিলে গুলি চালিয়ে মানুষ মারা হলো, দেশের মানুষকে অনাহারে মারার চক্রান্ত করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা চার জাহাজ বোঝাই গম চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস না করে করাচি পাঠিয়ে দেয়া হয়। এগুলো এসেছিল ত্রাণ হিসাবে।

সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার হচ্ছে

এদিন দেশের সর্বত্র উড়ছে কালো পতাকা। মহল্লায় মহল্লায় গড়ে উঠতে থাকে সংগ্রাম কমিটি। সব বয়স সব পেশা ও শ্রেণির মানুষ বেরিয়ে আসতে থাকে রাজপথে। রাস্তায়, মাঠে ময়দানে তখন গণসংগীত, নাটক, পথনাটক ও পথসভা করে চলছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বেতার টেলিভিশন শিল্পী সংসদ, মহিলা পরিষদ প্রভৃতি সংগঠন। হাইকোর্টের আইনজীবী, বেসামরিক কর্মকর্তা কর্মচারীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করতে থাকে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি