মঙ্গলবার,১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » নাম পরিবর্তন: ‘বঙ্গবন্ধু রেলসেতু’ এখন ‘যমুনা রেলসেতু’


নাম পরিবর্তন: ‘বঙ্গবন্ধু রেলসেতু’ এখন ‘যমুনা রেলসেতু’


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
২২.১২.২০২৪

বঙ্গবন্ধু রেলসেতু

নাম পরিবর্তন: ‘বঙ্গবন্ধু রেলসেতু’ এখন ‘যমুনা রেলসেতু’

ডেস্ক রিপোর্ট:

যমুনা নদীতে নির্মিত রেলসেতুর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবর্তে এই সেতুর নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘যমুনা রেলসেতু’। আজ রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘‘যমুনা নদীতে নির্মিত রেলসেতুর নাম আর বঙ্গবন্ধু রেল সেতু থাকছে না। এটি এখন ‘যমুনা রেলসেতু’ নামেই উদ্বোধন করা হবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই রেলসেতু উদ্বোধন করা হবে।’’

বর্তমান সেতুর সীমাবদ্ধতা

বর্তমানে যমুনার বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর মিটারগেজ রেলসংযোগে সর্বোচ্চ ৪৩.৭০ কিলো-নিউটন/মিটার ওজন বহনের অনুমতি রয়েছে। এছাড়া, এই সেতুতে এক লাইন থাকায় ট্রেন চলাচলে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টায় মাত্র ২০ কিলোমিটার গতিতে ৪.৮ কিলোমিটার সেতু পার হতে ট্রেনের ২৫ মিনিট সময় লাগে। এর ওপর স্টেশনগুলোতে সিগন্যালের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। সবমিলিয়ে পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।

নতুন সেতুর সম্ভাবনা

জানা গেছে, নতুন রেলসেতু নির্মাণের প্রকল্পটি জাপানের পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করছে। দুটি প্যাকেজে (ডব্লিউডি-১ এবং ডব্লিউডি-২) নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে। ডব্লিউডি-৩ প্যাকেজের অধীনে দুই প্রান্তের স্টেশনে সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করছে জাপানি প্রতিষ্ঠান ইয়াশিমা।

প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান, ব্রডগেজ ট্রেনের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার এবং মিটারগেজ ট্রেনের জন্য ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সিবিআইএস (কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলকিং সিস্টেম) কাজ এখনো ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সেতু চালুর পর সিবিআইএস চালু করতে আরও দুই-তিন মাস সময় লাগবে।

ট্রেন চলাচলের উন্নতি

নতুন সেতু চালুর পর, সেতুর কানেক্টিং স্টেশনে নন-ইন্টারলিংক সিস্টেমের কারণে ট্রেনের গতি সাময়িকভাবে ১৬ কিলোমিটারে নামিয়ে আনতে হবে। তবে মূল সেতুতে ট্রেন পূর্ণ গতিতে চলতে পারবে। বর্তমানে পুরোনো সেতু দিয়ে দিনে ৩৮টি ট্রেন চলাচল করছে। নতুন সেতু চালুর পর এই সংখ্যা বেড়ে ৮৮টি করার পরিকল্পনা থাকলেও, রেলওয়ের বর্তমান অবস্থা সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম নয়।

নতুন এই রেলসেতু বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি