রবিবার,৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


সিলেটে বন্যায় গৃহহীন তিন সহস্রাধিক পরিবার


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১৯.০৭.২০১৭

পূর্বাশা ডেস্ক:

সিলেটে বন্যার কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে গৃহহীন তিন সহস্রাধিক পরিবার। দুদিন ধরে পানি কমতে শুরু করেছে। কিন্তু বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এসব পরিবার নিজ ভিটায় ফিরতে পারছে না।

সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হিসাবমতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৩৫টি ঘরবাড়ি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বালাগঞ্জে। এ উপজেলার ১ হাজার ৯টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া গোলাপগঞ্জে ৭৮টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ৪০০টি, ওসমানীনগরে ১২৮টি ও কোম্পানীগঞ্জে ১২০টি। এসব ঘরের বাসিন্দাদের মধ্যে ১৫১টি পরিবার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় অবস্থান করছে।

তবে স্থানীয় হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা তিন সহস্রাধিক। তাছাড়া সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের কয়েক গুণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা আশ্রয়কেন্দ্র আর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর বাড়িতে।

গত ৪ জুন বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে সিলেট এসে ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছিলেন, বন্যায় গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেবে সরকার। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া এলাকার পাথর শ্রমিক আসাদ মিয়ার বাড়ি। ভিটা থেকে পানি নেমে গেছে, কিন্তু তিনি ফিরবেন কোথায়? তাই আশ্রয়কেন্দ্রেই কোনো রকম মাথা গুঁজে আছেন।

আসাদ মিয়া বলেন, বন্যার কারণে এক মাসের বেশি সময় কাজ বন্ধ। নতুন করে ঘর তৈরির মতো হাতে টাকা নেই। ত্রাণ খেয়ে বেঁচে আছি। ঘর বানাবো কী দিয়ে?

গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর এলাকার বর্গাচাষী আব্দুল মালেকের ঘরটিও ধসে পড়েছে। জুনের শুরু থেকে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো কাজকর্ম নেই। পরিবারের প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই সম্ভব হচ্ছে না। ঘর তৈরির টাকা পাব কোথায়?

তিনি জানান, যাদের ঘর ভেঙেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ তাদের তালিকা করছে। এ তালিকা তৈরিতেও স্বজনপ্রীতি করা হচ্ছে। তার নামটি এখনো স্থান পায়নি। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে বলেও তার অভিযোগ।

বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বোয়ালজুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনহার মিয়া বলেন, এতদিন পানি বাড়ার কারণে এক ধরনের কষ্ট ভোগ করেছে এলাকাবাসী। এখন পানি কমতে শুরু করার সময় আরেক ধরনের দুর্ভোগে পড়েছে তারা। অনেকের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। টাকার অভাবে সেসব মেরামত করতে না পেরে ঘরে উঠতে পারছে না তারা। প্রশাসন থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। সবাইকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করতে সব ইউএনওকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সবাই আবার দরিদ্র না, যারা দরিদ্র এবং ঘর পুনর্নির্মাণে অক্ষম কেবল তাদেরই ঘর সরকারের পক্ষ থেকে নির্মাণ করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, বন্যার পানি এখনো পুরোপুরি নামেনি। বেশির ভাগ এলাকা এখনো তলিয়ে আছে। পানি কমলে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে গত জুনের শুরু থেকে সিলেটে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা দেখা দেয়। এখনো পানিবন্দি অবস্থায় আছে সিলেটের তিন লক্ষাধিক মানুষ। যদিও জেলা প্রশাসনের হিসাবে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। তলিয়ে গেছে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর আউশ ধান। এছাড়া এ পর্যন্ত মারা গেছে প্রায় ছয় হাজার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি।

পূর্বাশানিউজ/১৯ জুলাই ২০১৭/মাহি



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি