শনিবার,২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » ২০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের পরিকল্পনা


২০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের পরিকল্পনা


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১১.১০.২০১৬

index
ডেস্ক রিপোর্ট ঃ
নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের একদিনে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নভেম্বর মাসের মধ্যভাগে এই দুই সিটির তফসিল ঘোষণা করে ২০ ডিসেম্বরে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ধারাবাহিকতায় এবার সিটির নির্বাচনও দলীয়ভাবে হবে। দলীয়ভিত্তিতে প্রথমবার দুই সিটির নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন আচরণ ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা চূড়ান্ত করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে সোমবার বিকাল পর্যন্ত বিধিমালা দু’টি এখনো ভেটিং হয়ে ইসিতে আসেনি। ভেটিং সম্পন্ন হলে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি শুরু করবে ইসি সচিবালয়।

 

বিএনপির বর্জনের ঘোষণার মধ্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে শেষভাগে গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আগামী ডিসেম্বরে সম্পন্ন করতে হবে। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে রয়েছে। ফলে তাদের অধীনে দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ছাড়াও জাতীয় সংসদের দু’টি উপ-নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ের বেশকিছু নির্বাচন রয়েছে। ২০১২ সালে দায়িত্ব শুরু করা পাঁচ সদস্যের এই কমিশনের অধীনে ২০১৩ সালে পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রশংসিত হলেও পরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো নানা কারণে বিতর্ক এড়াতে পারেনি। ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন সচিবালয় ইতোমধ্যেই প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয়ভাবে করার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সিটি নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় স্বতন্ত্র প্রার্থী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩শ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকার বিধান রাখা হয়েছে। আচরণবিধিতে মন্ত্রী ও এমপিদের প্রচারণার বাইরে রাখা হয়েছে। সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় এবং কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে হবে নির্দলীয় নির্বাচন।

 

বিগত ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ এবং ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি  করপোরেশনের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর। এ হিসেবে এ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৬ ডিসেম্বর। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুসারে মেয়াদপুর্তির ৬ মাস বা ১৮০ দিন আগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।  সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়েছে গত ৩০ জুন থেকে। আর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। মেয়াদ শেষ হবে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে। গত ১৩ আগস্ট থেকে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের কাউন-ডাউন শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কুমিল্লার ভোট শেষ করতে হবে।

 

নারায়ণগঞ্জ সিটির ভোটার ও কেন্দ্র ঃ

এ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে ২৭টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে ৯টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৩ হাজার ৭০৬ জন (আগের নির্বাচনের হিসেব অনুযায়ী)। পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৯৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬১০ জন। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৯ টি ওয়ার্ডের ৫৮ টি ভোট কেন্দ্রের ৪৫০ ভোট কক্ষে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়।

 

কুমিল্লা সিটির ভোটার ও কেন্দ্র ঃ

এ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে ২৭টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে ৯টি। আগের নির্বাচনের হিসেব অনুযায়ী সেখানে ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৭৩ জন। পুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ১৯৯ জন এবং নারী ভোটার ৮৬ হাজার ৭৪ জন। এরপর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত সবক’টি ভোটকেন্দ্রে সফলতার সাথে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি