বৃহস্পতিবার,২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


কুমিল্লায় যোগ হল ত্রিপুরার ১’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
২৪.০৩.২০১৬

hasina_bg_758013650

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু ঃ

ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ রফতানি দুই দেশের সর্ম্পকের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক স্থাপন করলো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন।

বুধবার (২৩ মার্চ) সকালে ত্রিপুরা থেকে ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তারা। এ সময় বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রফতানি কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে ত্রিপুরা-কুমিল্লা আন্তঃদেশীয় গ্রিডের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, বিদ্যুৎ আমদানি আমাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণ হবে। বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ রফতানিতে ত্রিপুরাসহ এ অঞ্চলের বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

ঢাকায় গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ও দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই ভারত-বাংলাদেশ ৪শ’ কেভি ডাবল সার্কিট লাইনটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়েছে।

ত্রিপুরা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়েছে গত ১৬ মার্চ থেকে। আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি শুরু হলো বুধবার। এর ফলে কুমিল্লাবাসীর বিদ্যুৎ দুর্ভোগ থেকে অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

জানা যায়, কারিগরি কমিটি’র সুপারিশ অনুযায়ী পিজিসিবি ত্রিপুরা সীমান্ত হতে কুমিল্লা (উঃ) উপকেন্দ্র পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন, কুমিল্লা (উঃ) উপকেন্দ্র হতে কুমিল্লা (দঃ) উপকেন্দ্র পর্যন্ত ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং কুমিল্লা (দঃ) উপকেন্দ্রে দুইটি ১৩২ কেভি নির্মাণ করেছে। ত্রিপুরা (ভারত)-কুমিল্লা (দঃ উপকেন্দ্র) (বাংলাদেশ) গ্রীড আন্ত:সংযোগ প্রকল্পের আওতায় কাজটি সম্পন্ন করার পর বিগত ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ১৩২ কেভি ভোল্টেজ দিয়ে লাইনটি সফলভাবে চালু করা হয়েছে (লাইন চার্জ)।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭১.৭৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার এবং পিজিসিবি যৌথভাবে এ কাজে অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ অংশে ৪৭ কি.মি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট সাবস্টেশনে সম্প্রসারণ কাজ করা হয়েছে।

সঞ্চালন অবকাঠামোঃ

৪০০ কেভি লাইন ২৮ কি.মি.। ভারত সীমান্ত হতে কুমিল্লা (উৎ) সাবস্টেশন পর্যন্ত। ১৩২ কেভি লাইন ১৯ কি.মি। কুমিল্লা (উত্তর) হতে কুমিল্লা (দক্ষিণ) সাবস্টেশন পর্যন্ত। বে-সম্প্রসারণ কুমিল্লা (দক্ষিণ) সাবস্টেশন, ২টি ১৩২ কেভি বে নির্মাণ। ভারত অংশে সঞ্চালন লাইন ১৮ কি.মি। (ভারত কর্তৃক নির্মিত)

দ্বিতীয় আন্ত:দেশীয় গ্রীড সংযোগ স্থাপনের ফলে বৃহত্তর কুমিল্লা এলাকায় মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে ভারতের ত্রিপুরা হতে অধিক বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লা অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সুযোগ বাড়বে, যা সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচীসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডকে জোরদার করবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

প্রসঙ্গতঃ ২০১০ সালের ১১ জানুয়ারী বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতার বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ-ভারত আন্ত:দেশীয় গ্রীড সংযোগ স্থাপনে কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান থেকেও বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি