মঙ্গলবার,২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • প্রচ্ছদ » কুমিল্লা নিউজ » চৌদ্দগ্রামের উজিরপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান খোরশেদ ও মেম্বার সিরাজকে বর্জন করার ঘোষণা এলাকাবাসির


চৌদ্দগ্রামের উজিরপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান খোরশেদ ও মেম্বার সিরাজকে বর্জন করার ঘোষণা এলাকাবাসির


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১৩.০৫.২০১৬

choddhgram gashgram

স্টাফ রিপোর্টার ঃ

ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট কারচুপি এবং এলোপাথারি ককটেল বিস্ফোরণ ও ৭ জনকে গুলিবর্ষনসহ প্রায় ১৫/২০ জনকে আহত করার অভিযোগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ও ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজুল ইসলামকে বর্জন করে তাদের সাথে সামাজিক ও রাজনৈতিক সকল প্রকার সর্ম্পক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে এই ইউনিয়নের ঘাসিগ্রামবাসি।

শুক্রবার (১৩ মে) বিকেল ৫ টায় ওই ইউনিয়নের ঘাসিগ্রামে প্রতিবাদ সমাবেশ করে এই দুই জন প্রতিনিধিকে বর্জন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে ৫ নং ওয়ার্ডের ঘাসিগ্রামের সর্বস্তরের প্রায় হাজার খানেক বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

DSC_0672

প্রতিবাদ সমাবেশ বক্তারা বলেন, মানিকপুর ও ঘাসিপুর গ্রাম নিয়ে ৫ নং ওয়ার্ড । এর মধ্যে মানিকপুরে প্রায় ১ হাজার ভোটার ও ঘাসিপুরে প্রায় ১ হাজার ৪ শত ভোটার রয়েছে। এই ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রটি (মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) মানিকপুর গ্রামে অবস্থিত। ৭ মে নির্বাচনের দিন ভোট শুরু হওয়ার আগেই ঘাসিপুর গ্রামের প্রায় ১ হাজার ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ভোট শুরু হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী খোরশেদ আলম ( নৌকা) ও মেম্বার প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ( ফুটবল প্রতীক) সমর্থকরা এই কেন্দ্রের ৬টি বুথেই নৌকা ও ফুটবল প্রতীকে জালভোট দেওয়া শুরু করে। ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে একটি বুথেই প্রায় ১৫০ জালভোট প্রয়োগ করে । এ সময় মোরগ প্রতীকের এজেন্টরা প্রতিবাদ করে বলেন, আপনারা নৌকা প্রতীকে যা ইচ্ছে করেন, আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু মেম্বার প্রার্থী ফুটবল প্রতীকে জালভোট দিবেন না। মেম্বার পদে ভোটটা স্বচ্ছ হতে দেন। এ সময় আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী খোরশেদ আলম মোরগ প্রতীকের এজেন্টদের ধমকের স্বরে বলেন, এখানে থাকতে চাইলে চুপ করে বসে থাক, প্রতিবাদ করলে লাথি মেরে বের করে দিবো। সবগুলো বুথে নৌকা ও ফুটবল প্রতীকে জালভোট চলাকালেই বাইরে ভোটাররা এসবের প্রতিবাদ জানালে কেন্দ্রের মধ্যেই সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বৃষ্টির ন্যায় ককটেল বিস্ফোরণ করতে থাকে নৌকা ও ফুটবল প্রতীকের সমর্থকরা। এ সময় সাধারণ ভোটাররা ও মোরগ প্রতীকের এজেন্টরা ভয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে পালিয়ে ঘাসিপুর গ্রামে চলে আসে। পরে সকাল ৯ টার দিকে ভোটকেন্দ্র থেকে ১৫০ গজ দূরে ঘাসিগ্রামের সীমান্তে এসে মেম্বার প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন যুবক কাটা রাইফেল, বালতি ভর্তি ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘাসিগ্রামে হামলা চালায় । এ সময় তারা এলোপাথারি গুলিবর্ষন ও ককটেল বিস্ফোরণ করতে করতে ঘাসিপুর গ্রামে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের গুলিবর্ষনে ৮ জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ১৫/২০ জন আহত হয়।

DSC_0705DSC_0697

এ সময় তারা মেম্বার প্রার্থী আক্তার হোসেনের (মোরগ) নির্বাচন কার্যালয়ের প্রায় শতাধিক চেয়ার ভাংচুর করে। পরে জসিম ও ফারুক মিয়ার বাড়ি ভাংচুর করে ফ্রিজ, টিভিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে। পরে আমরা আর ভোট কেন্দ্রে যেতে পারিনি। এর প্রতিবাদ জানাতে আমরা ঘাসিগ্রামবাসী মিয়াবাজার মহাসড়ক প্রায় ৩ ঘন্টা অবরোধ করে রাখি। পরে বিজিবির একজন উইং কমান্ডার এসে আমাদের আশ্বস্থ করে যে, এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে। পরে আমরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেই।

ওই দিনের হামলায় আহতরা হলেন, দিলীপ রঞ্জন চৌধুরী ( পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন), মোল্লা ফরিদের পেটে, মহরম আলীর পায়ে, তোফায়েল হোসেনের কাঁধে, মন্নানের কপালের পাশে, ্অটোরিক্সা চালক রাসেলের পায়ে, সোহাগের পায়ে ও আলমগীরের হাতে গুলিবিদ্ধ হন।

DSC_0709

মেম্বার প্রার্থী আক্তার হোসেন (মোরগ) বলেন, আমরা নির্বাচনের আগেই ভোটারদের বলেছি, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রথমে নৌকায় ভোট দিবেন। পরে যোগ্যতা অনুযায়ী মেম্বার প্রার্থীদের ভোট দিবেন। অথচ নৌকা প্রতীকের খোরশেদ আলম তার নৌকার সাথে সাথে মেম্বার প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের জন্য জালভোট প্রয়োগ করেছেন। আমাদের উপর হামলা করেছেন।

তাই আমরা গ্রামবাসি তাদের দুজনকে বর্জনসহ তাদের সাথে সকল সর্ম্পক ছিন্ন করার ঘোষণা দিচ্ছি। ভোট কারচুপি ও হামলার বিষয়ে নির্বাচনের দিন আমরা রেলমন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করেছি। আমরা এ ওয়ার্ডে পুনঃ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

DSC_0661

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুস সোবহান, উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার প্রমোদ বাবু চক্রবর্তী, সোনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাইমুর রহমান মাসুম, শাহলম মাষ্টার, নুর ইসলাম শরীফ, খোরশেদ আলম সরকার, মাষ্টার আলী আজ্জম, ব্যাংকার আবুল কাশেম, ভবের চন্দ্র সেন, বাবু রতীন্দ্র নারায়ন সেন, ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা ও ওই ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আক্তার হোসেন ( মোরগ প্রতীক)।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি