সোমবার,২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


ময়মনসিংহের স্কুলগুলোতে রমরমা বই বাণিজ্য


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১২.০১.২০১৭

library-550x367

ডেস্ক রিপোর্ট :

ময়মনসিংহের প্রাথমিক পর্যায়ের বেসরকারি নার্সারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে চলছে রমরমা বই বাণিজ্য। প্রত্যেক ক্লাসে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০টি বই পাঠ্য করে নির্ধারিত লাইব্রেরি থেকে উচ্চমূল্যে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। বিষয়টি স্বীকারও করছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বই বিক্রেতারা। এসব অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

মোটা অংকের ভর্তি ফি দিয়ে সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করানোর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বই, খাতা আর পোশাক বাণিজ্যের কবলে পড়ে নাজুক অবস্থা অভিভাবকদের। ময়মনসিংহ শহরের নার্সারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো প্রত্যেক ক্লাসে সরকারের বিনামূল্যে দেয়া বইয়ের বাইরে আরো অতিরিক্ত ও থেকে ১০টি বই পাঠ্য করে লাইব্রেরী নির্ধারণ করে দেয়ায় উচ্চমূল্যে বই কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। স্কুল থেকে বেশি দামে খাতা কেনা ছাড়াও স্কুল ড্রেসের কাপড়ও নির্ধারিত দোকান থেকেই কিনতে হয় তাদের।

বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্যই এটি করা হয়েছে। আর বই বিক্রেতারা বলছেন, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো টাকা দিয়ে বই পাঠ্য করানোর কারণে তারা কমিশন দিতে পারছেন না। ময়মনসিংহ নার্সারী স্কুল নতুন কুঁড়ি প্রধান শিক্ষক সুলতান জাহান বেগম বলেন, লাইব্রেরি নির্ধারিত থাকবে, কারণ বিভিন্ন স্কুলে বিভিন্ন বই থাকে। ময়মনসিংহ প্রগ্রেসিভ নার্সারী স্কুল সমন্বয়কারী জাকিরুল বাসার আকরাম বলেন, সরকারের বলে দেয়ার বাইরে কম বই আমরা পাঠ্য করি। লাইব্রেরির মালিক বলেন, কোম্পানির সঙ্গে স্কুলের ডোনেশনের ব্যবস্থা আছে। তারপর তাদের কাছে বললে বই পাওয়া যায়।

এসব অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক সহ-সাধারণ সম্পাদক আন্দোলন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, আমরা দাবি জানায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এদিকে সরকার নির্ধারিত বইয়ের বাইরে কোনো বই পাঠ্য করার সুযোগ নেই বলে জানান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। আর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক। ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এনসিটিবির অনুমতি ছাড়া কোন বই লাইব্রেরি থেকে কেনা বা দেয়ার সুযোগ নেই। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান বলেন, বিষটি খতিয়ে দেখবো। যদি এ ধরনের ঘতনা ঘটে থাকে তবে এটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, ময়মনসিংহ জেলার এক হাজার ৭৫টি কিন্ডারগার্টেন ও নার্সারী স্কুলে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি