মঙ্গলবার,২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


মানবদেহে উলকি অঙ্কন ও কালো খেজাব


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
১৬.০৩.২০১৭

পূর্বাশা ডেস্ক:

আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতিতে পরিবর্তন করাকে কোরআনের ভাষায় শয়তানি পূজা বলা হয়েছে। সে হিসেবে উলকি করাই হচ্ছে শয়তানের আনুগত্য করা। আর আল্লাহর সৃষ্টিকে অস্বীকার করা

আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির মধ্যে মানব জাতিই সর্বশ্রেষ্ঠ। তাদের মধ্যে কালো-ফর্সা, অন্ধ-কানা, প্রতিবন্ধী-কুৎসিত চেহারার মানুষও থাকতে পারেন। এর পরও সবাই মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠ জাতি। মানুষকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুন্দর আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যে আকৃতিতে মানুষ জন্মগ্রহণ করেছে, সেটাই তার আসল রূপ। এ রূপকে বিকৃত করা মানে আল্লাহর সৃষ্টির বিরোধিতা করা। আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

বর্তমানে আমাদের সমাজে পার্লার নামে উলকিস্থান প্রতিষ্ঠা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে মানবদেহে বিভিন্ন নকশা-চিত্র অঙ্কনের কাজ করা হয়। প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। বিশেষত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীদের উপস্থিতি বেশি। তারা সেখানে ভ্রƒ সংকুচিত, কালোকে ফর্সা, শরীর খোদাই ও রঙ করাÑ এসব কাজ করে থাকে। এভাবে তরুণ-তরুণীরা বিলাসের মোহে পড়ে নিজ শরীরে সুচের সাহায্যে নকশা অঙ্কন করে চলেছে। অথচ মহান আল্লাহ উলকি অঙ্কনকারী, কেশ উপড়ে ফেলা এমন নারী এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তনকারী নারীর প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। এসব অভিশপ্ত কাজ থেকে মুসলিম যুব সমাজের বিরত থাকা ঈমানি দায়িত্ব। সেই সঙ্গে নিজের পরিবারকে অপসংস্কৃতির কালো থাবা থেকে বাঁচানোর জন্য কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

কোরআনে উলকির নিন্দা

উলকি বলতে সুচের সাহায্যে দেহে অঙ্কিত স্থায়ী নকশা বা চিত্রকে বোঝায়। এটি গোনাহের কাজ। এটাকে ইসলাম মোটেই সমর্থন করে না। এ কর্মের জন্য পরকালে জাহান্নামের আজাব ভোগ করতে হবে। আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতিতে পরিবর্তন করাকে কোরআনের ভাষায় শয়তানি পূজা বলা হয়েছে। সে হিসেবে উলকি করাই হচ্ছে শয়তানের আনুগত্য করা। আর আল্লাহর সৃষ্টিকে অস্বীকার করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। শয়তান বলল, আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করব। তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদের আশ্বাস দেব, তাদের পশুর কর্ণছেদন করতে বলব এবং আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতিতে পরিবর্তন করতে নির্দেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।’

(সূরা নিসা : ১৭-১৯)।

হাদিসে আকৃতি পরিবর্তনকারীর ভয়াবহ পরিণতি

বর্তমান সমাজে মুসলমানরা আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করাকে অপরাধই মনে করছে না। অথচ এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) এর অপছন্দনীয় ও ঘৃণিত কাজ। এ মর্মে হজরত রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, ওই সকল নারী ও পুরুষকে, যারা শরীরে ছিদ্র করে, শরীরকে রাঙায় এবং ওই সব নারীর ওপর, যারা সৌন্দর্যের জন্য স্বীয় ভ্রƒর কেশ উপড়ায় আর দাঁতের ওপর রেতি চালায়। তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করতে চায়।’ (বোখারি : ৬০১২; মুসলিম : ৫৬৯৫)।

তিনি আরও বলেন, ‘যে নারী চুলের সঙ্গে চুল সংযোজন করে কিংবা করায় তার ওপর নবী আলাইহিস সালাম অভিসম্পাত করেন। আর শরীরে সুচ দ্বারা ছিদ্র করে রঙ লাগায় এবং যে ব্যক্তি রঙ লাগানোর কাজ করে তার ওপরও অভিসম্পাত করেন।’ (বোখারি: ৬০১১; মুসলিম: ৫৬৯৩)

চুলের সঙ্গে কৃত্রিম চুল সংযোজন হারাম

মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত বিদায় নিতে পারে। ফিরে আসতে পারে না। ফিরে পাওয়াই অসম্ভব। কারণ, শিশুকাল থেকে বৃদ্ধকালে পদার্পণ করা সম্ভব। কিন্তু বৃদ্ধকালে শিশুকাল খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। সৃষ্টিকর্তার বিধানই এরকম। এর পরও কিছু কিছু মানুষ প্রবৃত্তির মায়াজালে বন্দি হয়ে যৌবনকাল ধরে রাখার চেষ্টা করে। অথচ যৌবনকাল ধরে রাখার জিনিসই নয়। তবে যৌবনকালের ছদ্মবেশী রূপগুলো অনুসরণ করে চলে। এ প্রবৃত্তির চাহিদা মেটাতে গিয়ে মানুষ শরিয়তবিরোধী আমল করতে শুরু করে। যেমন মাথায় কৃত্রিম চুল সংযোজন করা এবং দাড়ি ও চুলে কালো খেজাব লাগানো। ব্যবহারকারী চাই পুরুষ হোক বা নারী হোক উভয়ের জন্য এ আমল হারাম। হজরত রাসুল (সা.) কালো খেজাব না লাগানোর জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হাদিসে আছে, একদিন এক মহিলা সাহাবি নবীজি (সা.)কে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! মূত্রপাথরি রোগের কারণে আমার মেয়ের মাথার চুল ঝরে গেছে। তাকে আমি বিয়ে দিয়েছি। আমি কি তার চুলের সঙ্গে অন্য চুল জুড়ে দেব? উত্তরে নবী আলাইহিস সালাম বলেন, যার চুল সংযোজন করা হয় এবং যে সংযোজন করে উভয়ের ওপর আল্লাহ অভিশাপ দেন। (বোখারি : ৬০০৪; মুসলিম : ৫৬৮হাদিসে আরও আছে, মক্কা বিজয়ের দিন হজরত আবু বকর (রা.) এর বাবা আবু কোহাফাকে নবীজির (সা.) সামনে উপস্থিত করা হয়। তখন তার দাড়ি ও চুল ‘সাগামা’ নামি বুড়ির মতোই দেখাচ্ছিল। নবীজি (সা.) তা দেখে বলেন, তার দাড়ি ও মাথার চুলের রঙ বদলে দাও। তবে কালো রঙ থেকে বেঁচে থাকো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি