মঙ্গলবার,২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


গুদাম সংকট, সরকার ধান-চাল কিনতে পারছে না


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
০২.০৭.২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট : কৃষককে সহায়তা দিতে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান-চাল সংগ্রহের ঘোষণা দিলেও তা কাজে আসছে না। গুদাম সংকটের কারণে তা কিনতে পারছে না খাদ্য অধিদপ্তর। অথচ এবারই প্রথম প্রান্তিক কৃষককের কাছ থেকে ৪লাখ টন ধান চাল কেনার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু ধান চাল সংগ্রহে গতি না থাকায় বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

জানা যায়, সর্বোচ্চ ২০ লাখ টন খাদ্যশস্যের ধারণক্ষমতা রয়েছে সরকারী গুদামে। বর্তমানে গুদামে মজুত রয়েছে ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯৫ টন। এর মধ্যে বোরো মৌসুমে সংগৃহীত ৮ লাখ ৭৫ হাজার ২১১ টন। সোমবার পর্যন্ত বোরো মৌসুমের ধান সংগ্রহ করা হয় ৮৩ হাজার ৬৫১ টন। যা লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া সেদ্ধ চাল ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৯ টন ও আতপ চাল ৫৯ হাজার ৮১৪ টন ও গম ৩৯ হাজার ৫০ টন সংগ্রহ করা হয়েছে। এই হিসাবে গুদামে এখন ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪০৫ টন খাদ্যশস্য রাখা যাবে। কিন্তু এখনও ধান, চাল, গম মিলিয়ে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ বাকি রয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে প্রতি মণ ধানে একজন প্রান্তিক কৃষককে ২’শ থেকে সাড়ে ৩’শ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হয়েছে। এরফলে সরকার ধানের দাম বাড়াতে চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৬ লাখ টন খাদ্যশস্য সংহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এর মধ্যে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, দেড় লাখ টন আতপ চাল, ৪ লাখ টন ধান ও ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহ করার কথা। এ সময়ে জন্য প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা ও আতপ চাল ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সরকারী গুদামে জায়গা না থাকায় খুবই ধীর গতিতে চলছে এ সংগ্রহ অভিযান।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি কারণে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান ঝিমিয়ে পড়েছে । এরমধ্যে গুদাম সংকট, প্রান্তিক কৃষকদের কাছে ধান না থাকা, চুক্তিবদ্ধ মিল থেকে সময় মতো চাল সরবরাহে অনীহা ইত্যাদি কারণ রয়েছে। ধান চাল না পাওয়ার আরও একটি কারণ হচ্ছে ধারদেনা করে চাষাবাদ করায় মৌসুমের শুরুতেই কৃষকরা তা লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া।

আরও জানা যায়, সরকারের বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কারণে প্রতি মাসে বড় পরিমাণ ধান চাল গুদাম থেকে খালাস হবে। তখন ধান চাল সংগ্রহের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী জানান, সরকারের ধান, চাল কেনার উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র কৃষকদের নায্যমূল্য পাবার বিষয়টি নিশ্চিত করা। কিন্তু যে পরিমাণ এবং প্রক্রিয়ায় সরকার ধান, চাল কেনে তাতে এটা সম্ভব নয়।

এ ব্যপারে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমানারা খানুম বলেন, চাল সংগ্রহের পরিমাণ বাড়লে প্রান্তিক কৃষকরা খুব একটা লাভবান হবেন না। ধান সংগ্রহ করলে তারা লাভবান হবেন । ২০০টি পেডি সাইলো নির্মাণ করা হবে। যার প্রত্যেকটি ধারণক্ষমতা হবে ৫ হাজার টন। এগুলোর নির্মাণ শেষ হলে কৃষকের কাছ থেকে ধান চাল কেনার পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি