রবিবার,৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


‘হামলার সময় পুলিশ মোবাইলে গেম খেলছিল’


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
০৪.০৩.২০১৮

পূর্বাশা ডেস্ক:

‘স্যারকে হামলার সময়, পুলিশের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো হামলাকারী। তবে পুলিশ কিছুই করতে পারেনি বরং হামলার আগ মুহূর্তে পুলিশ দাঁড়িয়ে গেমস খেলছিল’; এই বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী অনেক শিক্ষার্থী।

শনিবার সেই পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে হামলার শিকার হলেন দেশবরেণ্য এই শিক্ষাবিদ।

তবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক এই বিষয়টি সম্পর্কে বলেছেন, হামলার সময়কার ওই পরিস্থিতিতে বিষয়টি অন্য রকম ছিল। আসলে পুলিশ তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছে।

জানা যায়, জঙ্গি হামলায় বিভিন্ন সময় প্রাণ হারিয়েছেন দেশের লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও মুক্তমনা ব্লগাররা। জঙ্গি টার্গেটে থাকার আশঙ্কায় জনপ্রিয় লেখক, পদার্থবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ।

তবে অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হামলাকারী আগে থেকেই অধ্যাপক জাফর ইকবালের পিছনে দাঁড়িয়েছিলেন। তার একটু পাশেই ছিলেন পুলিশের তিন সদস্য। তবে তারা ব্যস্ত ছিল মোবাইল নিয়ে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘হঠাৎ করেই স্যারের ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো হামলাকারী। পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। তাহলে ওদের কেন এখানে রাখা হয়েছে?’

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ওয়াহাব মিয়া জানান, ‘নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছিলো পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু অনুষ্ঠানের বিরতিতে সুযোগ পেয়েই তার ওপর হামলা চালানো হয়। অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে পুলিশের এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এ ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের গাফিলতিও দেখছেন তারা।

জেলা বার অ্যাসোসিয়শেনের সাবেক সভাপতি এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘হুমকি পাওয়ার পরও পুলিশ সদস্যদের সামনেই যদি হামলা করা হয় তাহলে আমরা বলতে পারি, এসব পুলিশ প্রহরা অর্থহীন। গোয়েন্দা তৎপরতা, গোয়েন্দা রিপোর্ট তাদের হাতে। তাই প্রাথমিকভাবে এ ঘটনার দায় দায়িত্ব তাদের নিতেই হবে।’

পুলিশ সদরদপ্তরের আদেশের প্রেক্ষিতে, ২০১৫ সাল থেকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় পুলিশ আটক যুবক ফয়জুর রহমানের পরিচয় জানাতে পারলেও ঘটনার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

পূর্বাশানিউজ/ ০৪ মার্চ ২০১৮/রুমকী



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি