সোমবার,৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


বিশ্ব কি তবে অন্যদিকে হাঁটছে?


পূর্বাশা বিডি ২৪.কম :
৩০.০১.২০১৭

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ওয়াশিংটনে বিরোধীদের এক হাত নিয়েছেন ট্রাম্প, তুলোধুনো করেছেন মিডিয়াকে। অন্যদিকে জার্মানির ট্রাম্পসমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণে আনন্দ পেয়েছেন। বিশ্ব কি তবে অন্যদিকে হাঁটছে? প্রশ্ন ফল্কার ভাগনারের।

‘আমাদের পরিচিত বিংশ শতাব্দীর সেই জগতটা আর নেই’– কথাগুলো জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক ভাল্টার স্টাইনমায়ারের, যিনি খুব শিগগিরই জার্মানির প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। তাই কথাগুলো যে তিনি কোনোরকম চিন্তা না করে মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন, সে কথা বোধ হয় বলা যায় না।

তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, স্টাইনমায়ারের সঙ্গে একেবারে একমত ফ্রান্সের চরম দক্ষিণপন্থী নেত্রী, ন্যাশনাল ফ্রন্টের মারিন ল্য পেন।

ভুলে গেলে চলবে না, তিনি কিন্তু সেই বিশ্বনেতাদের একজন, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্বপ্রথম অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ল্য পেনের কথায়, ‘এই মুহূর্তে আমরা একটা চেনা পৃথিবীকে শেষ হয়ে যেতে দেখছি আর প্রত্যক্ষ করছি নতুন একটি বিশ্বের জন্মকে।’

মায়ার এবং ল্য পেনের এই কথাগুলোয় কি আপনি চমকে গেলেন? কিন্তু আপনার পর্যবেক্ষণ কি ঠিক সেই কথাই বলছে না? ব্রেক্সিট আজ এক চরম সত্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একের পর এক দেশের চরমপন্থী সরকার এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে, ইইউ-র মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে যা খাপ খায় না।

ইউরোপের রাজনীতি যেন পাল্টে যাচ্ছে ধীরে ধীরে – ব্রিটেন, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ডে আজ ‘পপুলিজম’-এর জয়জয়কার। ফ্রান্সের পাশাপাশি আগামীতে জার্মানিতেও নির্বাচন। তাই অন্যান্য দেশের মতো এখানেও যে উগ্রপন্থা উঁকি দেবে না, তার কি কোনো ‘গ্যারান্টি’ আছে? কারণ ইতোমধ্যেই যে রাজ্য সংসদে ঢুকেছে ‘জার্মানির জন্য বিকল্প’ দল এএফডি।

‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’

তাও যদি শুধু ব্রেক্সিট বা ইইউব্যাপী চরমপন্থার বিকাশ হতো, তা হলেও হয়ত হতো। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির মোড়টাই ঘুড়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প উঠে আসায়। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এতদিন সচেষ্ট ছিল অ্যামেরিকা। অন্তত কথার কথা হিসেবে সেটা মেনে নেয়া যাক। কিন্তু এবার? ভবিষ্যতে মার্কিনিদের ভূমিকা কী হতে চলেছে, সে কথা ভাবলে চিন্তা হয় বৈকি!

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াকে পুটিনের রাশিয়ার হাতে এক রকম ছেড়েই দিয়েছে অ্যামেরিকা। বরং এখন তাদের দৃষ্টি ইসরাইলের দিকে। আর তাই তো তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসটি উঠে গিয়ে বসতে চলেছে জেরুজালেমে।

তার ওপর ইউরোপে ট্রাম্পের বন্ধুর অভাব নেই – ল্য পেন, এএফডি-র ফ্রাউকে পেট্রি অথবা নেদারল্যান্ডসে উগ্র-ডানপন্থি চিন্তার নায়ক গেয়ার্ট ভিল্ডার্স – সকলেই ট্রাম্পের ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট’ পলিসিকে সমর্থন করেছে। আর সেটা তারা করেছে ইউরোপে জাতীয়তাবাদের উত্থানের ইচ্ছা থেকেই।

অথচ এই ইউরোপকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে অনেক কিছু শিখতে হয়েছিল। জোট বাঁধার গুরুত্ব, গণতন্ত্রের বিকাশ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা – এসব কি তাহলে আর এই নতুন পৃথিবীর জন্য প্রযোজ্য নয়? তা নাহলে কীভাবে সম্ভব হলো ব্রেক্সিট অথবা ট্রাম্পের বিজয়?

প্রতিবাদই একমাত্র পথ

তাহলে কি আর আশা নেই? বেঁচে নেই কোনো স্বপ্ন? আছে। ওয়াশিংটনকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী ‘ওমেন’স মার্চ’-ই তার উদাহরণ। অন্যায়-অবিচার-আঘাতের বিরূদ্ধে প্রতিবাদ ও মুক্তির পথ এগিয়ে যাওয়াই যে এখন একমাত্র পথ। সেখানেই লুকিয়ে আছে আমাদের অস্তিত্ত্বের প্রশ্ন। গণতন্ত্রের মন্ত্রে, সমানাধিকারে এখনও যারা বিশ্বাসী, তাদের যে এছাড়া কোনো পথ নেই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি